ভালো তো সবাই বাসে, আগলে রাখে ক'জনে বলো?
- Web-film: ঘুমপরী- Ghumpori (2025)
- Directed by: জাহিদ প্রীতম
- Runtime: 1h 53m
- Genere: Romance, Mystery
- Casts: Pritom Hasan, Tanjin Tisha, Parsha Mahjabeen Purnee, Deepa Khandaker, Mili Bashar
- Streaming Platform: চরকী
এটি এক অসাধারণ সৃষ্টি! জাহিদ প্রীতমের গল্প বলার শৈলী বিশেষভাবে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য দ্বারা প্রভাবিত। গল্পের গভীরতা ও আবেগ প্রকাশে তিনি শিল্পের সৌন্দর্যকে একেবারে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। চিত্রনাট্য খুবই প্রাঞ্জল ও গুছানো, ডায়ালগগুলো ছিল মস্তিষ্কে গেঁথে যাওয়া। প্রতিটি দৃশ্য এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন সেটা দর্শককে পুরোপুরি জড়িয়ে ধরে। অভিনয়ে যেমন সমৃদ্ধি, তেমনি সঙ্গীতে এমন এক উঁচু মানের সম্পৃক্ততা রয়েছে যা পুরো চলচ্চিত্রকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
প্রীতম হাসান, পরিচয়টা সংগীতশিল্পী হিসেবে। কিন্তু স্বল্প ক্যারিয়ারে যতবার অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছেন প্রতিবার মন্ত্রমুগ্ধ করেছেন। “ কাছের মানুষ দূরে থুইয়া” মুভিতে তাকে দেখে প্রথম মুগ্ধ হই । এমন ন্যাচারাল অভিনয় কীভাবে করে ছেলেটা! ‘ঘুমপরী' ওয়েবফিল্মেও প্রীতম কবিতার মতো সুন্দর অভিনয় করেছেন। মেঘের চরিত্রে তার ভালোবাসা, অপেক্ষা আর বিষন্নতা যেন দর্শককে অদ্ভুত দোলাচলে ভাসিয়েছে। যে কারণে মেঘের প্রতি মায়া জন্মায়, ভালোবাসা জন্মায়, শেষবেলায় কিছুটা আক্ষেপও কাজ করে! ঘুমপরী প্রীতম হাসানের সেরা কাজগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে যেমন গণ্য হবে তেমনি অভিনেতা হিসেবে প্রীতম নিজেকে নিয়ে গেলেন অনন্য এক উচ্চতায়! পারশার অভিনয় নিয়ে আমি কিছুটা সন্দেহে ছিলাম, কিন্তু সেও আমাকে অবাক করেছে। তার অভিনয়ে অদ্ভুত এক প্রাকৃতিকতা ছিল যা চরিত্রটির সাথে একদম মানানসই। আর পুরোটা সময় জুরে কী যে মিস্টি লাগছিলো মেয়েটাকে! একটা চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে তানজিন তিশা যে কতোটা অসাধারণ অভিনয় করতে পারেন ওয়েবফিল্ম “ঘুমপরী” দেখলে দর্শকরা সেটা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারবে।
জাহিদ নিরবের পটভূমি সুরের কাজ ছিল একদম অসাধারণ। পুরো সিনেমায় তার সঙ্গীতের সমন্বয় একেবারে নিখুঁত ছিল, যা গল্পের আবেগকে আরো শক্তিশালী করেছে। তাঁর মিউজিক্যাল স্কোর বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। এছাড়াও, ছবির দুটি গান মন ভালো করে দেয়, যেগুলি সিনেমার মুডের সাথে পুরোপুরি মানানসই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যগুলি চমৎকারভাবে চিত্রায়িত হয়েছে, যা স্থানীয় সৌন্দর্য ও ক্যাম্পাসের পরিবেশকে সঠিকভাবে তুলে ধরেছে। এই ছবিতে ঢাকার ক্যাম্পাস জীবনের এক নতুন দৃষ্টিকোণ সামনে এসেছে।
ঘুমপরীর ওই গল্পটা ঠিকই শেষ হয়ে গেছে। তবে আমি আসলে এখনো ঘুমপরীর ওই গল্পটা থেকে বের হয়ে আসতে পারিনি। কিছু কিছু গল্প আসলে এতোটাই অসাধারণ হয় যে ওই গল্পগুলোর রেশটা সহজে কাটিয়ে ওঠা যায় না। ঘুমপরীর ওই গল্পটা দেখে এবার আমার সত্যিই মনে হয়েছে ওই গল্পের রেশটা হয়তো আমার মাঝে থেকে যাবে আরো অনেকদিন।
আরো দেখুন: সেরা মালায়ালাম অ্যাকশন মুভি 2024


0 Comments