Habji Gabji (2022)

 


ফোনে নয়, মাঠে ময়দান

জুড়ে হোক তাদের খেলা

ফোন থেকে মুক্তি পাক

সব্বার ছেলেবেলা !

 

            - পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (আদি) 

            - শুভশ্রী গাঙ্গুলী (ঈশা) 

            - সামন্তক দ্যুতি মৈত্র (টিপু) 

            - ওশ মল্লিক (শিশু টিপু) 




(হালকা স্পয়লার)

হাবজি গাবজি এমন এক গল্প, যা বর্তমান প্রজন্মের অভিভাবকদের জন্য চিন্তার খোরাক হয়ে উঠতে পারে। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র আদি ও ঈশা, যারা কর্মজীবী দম্পতি। তাদের একমাত্র সন্তান টিপু ছোটবেলা থেকেই মোবাইল গেমের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। প্রথমদিকে বাবা-মা এটা নিয়ে চিন্তিত ছিল না, বরং ব্যস্ততার কারণে ইচ্ছে করেই টিপুকে মোবাইলের প্রতি আকৃষ্ট হতে দেয়, যাতে সে চুপচাপ থাকে এবং তাদের বিরক্ত না করে। 

সমস্যা শুরু হয় যখন টিপুর এই মোবাইল আসক্তি মাত্রা ছাড়িয়ে যায়—সে হিংস্র হয়ে ওঠে, বাবা-মাকে গালাগাল করে, মেরে ফেলতেও উদ্যত হয়। ধীরে ধীরে টিপুর মধ্যে একধরনের ভয়ংকর পরিবর্তন আসতে থাকে। বাবা-মা যখন বিষয়টি বুঝতে পারে, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। গল্পের বাকিটা জানতে হলে দেখতে হবে সিনেমাটি। 



হাবজি গাবজি বাস্তবধর্মী ও শিক্ষামূলক একটি সিনেমা, যা আমাদের সমাজের একটি বড় সমস্যাকে তুলে ধরেছে—শিশুদের মোবাইল ও ভিডিও গেম আসক্তি। বর্তমানে আমরা প্রায়ই দেখি, শিশুরা যখন কান্নাকাটি করে বা বিরক্ত করে, তখন অভিভাবকরা তাদের মোবাইল হাতে ধরিয়ে দেন। কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব অনেকেই বুঝতে পারেন না। 

- পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এখানে এক দায়িত্বশীল কিন্তু কর্মব্যস্ত বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি শুরুতে সন্তানের দিকে তেমন মনোযোগ দেন না, কিন্তু পরে ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হন। তার অভিনয় ছিল যথেষ্ট বাস্তবসম্মত। 

- শুভশ্রী গাঙ্গুলীর অভিনয় ছিল অসাধারণ। বিশেষ করে তার আবেগঘন দৃশ্যগুলো সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়। 

- টিপুর চরিত্রে সামন্তক দ্যুতি মৈত্র চমৎকার অভিনয় করেছেন। তার এক্সপ্রেশন, রাগ ও মানসিক পরিবর্তনগুলো বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। 

রাজ চক্রবর্তী বরাবরই সামাজিক বাস্তবতাকে সুন্দরভাবে পর্দায় তুলে ধরতে পারেন। এই সিনেমাটিও তার ব্যতিক্রম নয়। গল্পটি খুবই বাস্তবধর্মী এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে নির্মিত। যদিও গল্পের গতিপথ অনুমান করা যায়, তবুও শেষের দিকে কিছু চমক রয়েছে, যা দর্শকদের মুগ্ধ করবে। 



পজিটিভ দিকঃ

- অহেতুক গান বা দীর্ঘ সংলাপ নেই, যা গল্পকে গতিশীল রেখেছে। 

- সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক চমৎকারভাবে আবহ সৃষ্টি করেছে। 

- পুরো গল্পটি খুব সাবলীল এবং বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। 

হাবজি গাবজি শুধুমাত্র একটি বিনোদনমূলক সিনেমা নয়, বরং একটি সামাজিক বার্তাসমৃদ্ধ চলচ্চিত্র। অভিভাবকরা যদি তাদের সন্তানদের প্রতি দায়িত্বশীল না হন, যদি মোবাইল গেমকে ‘বিকল্প অভিভাবক’ বানিয়ে তোলেন, তাহলে ভবিষ্যতে ভয়ংকর পরিণতি হতে পারে। 

যারা পরিবার নিয়ে একটি শিক্ষামূলক এবং আবেগঘন সিনেমা দেখতে চান, তাদের জন্য এটি অবশ্যই সুপারিশ করা যায়। 

ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৭.৫/১০ 

উপযুক্ত দর্শকঃ সপরিবারে দেখা যাবে। 

স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মঃ হইচই (বাংলাদেশ ও ভারত) 


আপনি যদি ইতিমধ্যে দেখে থাকেন, তাহলে কেমন লাগল জানাতে পারেন!


আরো দেখুন: সেরা মালায়ালাম অ্যাকশন মুভি 2024